এক মুক্তিযোদ্ধার বর্নাঢ্য গল্প ও প্রবন্ধ
Original price was: 400.00৳ .300.00৳ Current price is: 300.00৳ .
- গ্রন্থের নামঃএক মুক্তিযোদ্ধার
- বর্নাঢ্য গল্প ও প্রবন্ধ
- লেখক :কৃষিবিদপ্রফেসর ড. সিরাজ উদ্দিন আহমেদ
- প্রচ্ছদ: আল নোমান
- মূল্য:৪০০
প্রকাশন: সপ্তর্ষি প্রকাশন
প্রকাশক:shibu chandra ojha - স্বত্ব: লেখক
Description
১৯৭১ সালের মার্চে আমি ময়মনসিংহে অবস্থিত পূর্ব পাকিস্তান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বর্তমান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়) ১ম বর্ষের ছাত্র ছিলাম। ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের পর সারাদেশে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছিল। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে লেখাপড়া বলতে গেলে একেবারেই স্তগিত। ২৬শে মার্চের কালো রাত্রিতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বর আক্রমণের পর থেকেই মূলত মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। তাই গফরগাঁও লাইনে কিছুটা ট্রেনে, কিছুটা পায়ে হেঁটে, সাতকামাইল-বরমী- মঠখলা হয়ে অনেক কষ্ট করেই কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী থানায় নিজ গ্রামের বাড়িতে চলে আসলাম। কয়েক মাস পর নিজ গ্রাম ও আশেপাশের কয়েক গ্রামের সমবয়সি ২০/২৫ জন ছেলেকে নিয়ে ইন্ডিয়া চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করলাম। জুলাই মাসের ১৯ তারিখ, দুপুরে খাওয়া দাওয়া করে আশিতীপর বৃদ্ধ বাবা চৌকির ওপর শুয়েছিলেন। আস্তে আস্তে বাবার পা ছুঁয়ে আশীর্বাদ নিয়ে ছোট্ট একটা ব্যাগে কিছু কাপড় চোপড় ভরে ঘর থেকে বেরিয়ে জঙ্গলের ভিতর দিয়ে কোথাও হাঁটু পানি ভেঙ্গে রওয়ানা দিয়ে গ্রামের প্রায় শেষ প্রান্তে এক বন্ধুর বাড়িতে গিয়ে উঠলাম এবং ওর বাড়িতে আমরা ৫/৬ জন একসাথে খাওয়া দাওয়া করলাম। পূর্ব পরিকল্পনা মতো আমরা সন্ধ্যার দিকে বেতাল বাজারে একত্রিত হলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা ইউনিয়ন কাউন্সিল অফিসের সামনে অনুপ্রেরণার কিছু বাণী শুনিয়ে করতালির মাধ্যমে আমাদেরকে বিদায় দিলেন।
অন্ধকার রাতে কাঁচা সড়ক ধরে ৪ মাইল হেঁটে চাতলভাগা হাই স্কুলে গিয়ে পৌঁছলাম। সেখানে গিয়ে আমাদের মতো বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত আরো অনেক ছেলেদের সাথে মিলিত হলাম। রাত ৯টার দিকে ৪ জন দালাল এসে সবাইকে খালি গায়ে লম্বা লাইন করে হাঁটিয়ে মানিকখালী রেল স্টেশনের উপর দিয়ে পূর্ব দিকে নিয়ে জঙ্গলের পাশে রাখা এক নৌকায় গাদাগাদি করে উঠালো। রাত ১০টার দিকে রওয়ানা দিয়ে ভোর বেলায় নিকলী থানার পাশে কোনো এক স্থানে নৌকাটিকে ভিড়ালো। ওখান থেকে আরেকটি নৌকায় আরো ৬০/৭০ জন ছেলেকে নিয়ে দুই নৌকা একসাথে আবার রওয়ানা দিল। দুপুরে সাথে করে নেওয়া
কিছু চিরাগুড় খেলাম। সারাদিন হাওরের ভিতর দিয়ে চলতে চলতে সন্ধ্যার দিকে নৌকা দুটি টিলার উপরে একটি গ্রামে নিয়ে ভিড়ালো, গ্রামবাসী ডাকাত মনে করে লাঠি বল্লম নিয়ে গ্রামের আরেক পাশে অবস্থান নিল। অনেকক্ষণ পর যখন তারা আস্তে আস্তে বুঝতে পারলো যে আমরা ডাকাত নই বরং মুক্তিবাহিনী, তখন গ্রামবাসী আমাদেরকে খাসি জবাই করে বেশ ভাল করেই আপ্যায়ন করল। রাতটা ওখানে কাটিয়ে ভোরে আবার নৌকা দুটি চলতে শুরু করল। দুপুরে একটু চিরা-গুঁড় খেলাম, সন্ধ্যায় আবার হাওরের মধ্যে এক টিলার ওপর এক গ্রামে নৌকা দু’টি নোংগর করলে গ্রামবাসী আমাদেরকে ডাকাতদল মনে না করে এবারও বেশ ভালভাবেই আপ্যায়ন করে খাওয়ালো। রাতটা কাটিয়ে ভোরে আবার হাওরের ভিতর দিয়ে নৌকা যাত্রা শুরু করে দুপুরের পর সুনামগঞ্জ জেলার বিসমপুর থানার রাজঘাট নামক এক জায়গায় এসে আমাদেরকে নামিয়ে দিল। আমরা সকলেই মনে হয় ২৫ টাকা করে ভাড়া দিলাম।






Reviews
There are no reviews yet.