গল্প যখন সত্যি হয়
Original price was: 400.00৳ .300.00৳ Current price is: 300.00৳ .
গ্রন্থ:গল্প যখন সত্যি হয়
ধরন:গল্পগ্রন্থ
কবি ও গল্পকার:সোনালী দাস
প্রচ্ছদ: Al Noman
মূল্য: ৪০০
প্রকাশন: সপ্তর্ষি প্রকাশন
প্রকাশক: Shibu Chandra Ojha
Description
টিউলিপ
লম্বা, ফরসা শরীরে অতি সুন্দর নাক-চোখ আর সুডৌল দেহসৌষ্ঠবে টিউলিপকে সত্যিই একটা ফুলের মতো লাগছিল সেদিন। আর মানবসমাজে তাকে সেরা সুন্দরীর শ্রেণিতেই রাখা যায়। কাজ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুশ্রেণিতে শিক্ষক-সহকারী হিসেবে। আমিও সেদিন সেই ক্লাসে গিয়েছিলাম শিক্ষকের সাবস্টিটিউট হিসেবে। দেখা হতেই টিউলিপ হাসিমুখে বলল,
‘গুডমর্নিং মিস বি। আমি তো তোমাকে চিনি, আগেও একদিন এসেছিলে, তখন অনেক কথা হয়েছিল আমাদের, মনে পড়ে? তা বলো কেমন আছ, কেমন চলছে তোমার দিনকাল?’
‘এই তো চলছে, তুমি কেমন আছ? তোমার পরিবারের সবাই কেমন আছে?’
‘পরিবার আর কোথায়, আমি আর দুটো ছেলেমেয়ে।’
‘কেন, তোমার স্বামী কোথায়?’
‘আমাদের তো সেই কবেই ডিভোর্স হয়ে গেছে। তুমি তো জানো সেটা, সেদিনই তো বলেছিলাম।’
‘ওÑমনে পড়েছে কিছুটা! আচ্ছা, ডিভোর্সটা কে দিয়েছিল তুমি না সে?’
‘সে দিবে কীভাবে? সে আমাকে বাধ্য করেছে ডিভোর্স নিতে। বোলো না আর, খুব খারাপ মানুষ। ভালোই হয়েছে, আমি খুব ভালো আছি এখন।’
তখনো ক্লাসে ছাত্ররা আসেনি। আগের দিন গুছিয়ে রাখা চেয়ারগুলো টেবিলের পাশে পাতিয়ে সেদিনের ক্লাস পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় কাজ করার পাশাপাশি মুখে কথা বলছিল টিউলিপ। আমিও ওকে সাহায্য করছিলাম আর মন দিয়ে শুনছিলাম ওর কথা। বলতে বলতে ছাত্র-ছাত্রীরা আসতে শুরু করল, আমাদের কথাও থেমে গেল। কিন্তু আমার অনেক প্রশ্নের উত্তর জানার আগ্রহ থামল না। সুযোগ খুঁজছিলাম। ভয় ছিল ব্যক্তিগত এসব প্রশ্নের উত্তর সে দিবে কি না অথবা এসব প্রশ্নের কারণে আমার উপর রেগে যাবে কি না। প্রায় একঘণ্টা শিশুরা যখন খেলছিল তখন আবার ওকে কিছুটা ভয়ে ভয়ে প্রশ্ন করলাম। জানতে চাইলাম কীভাবে বিয়ে হলো তাদের, বিয়ের পরে সম্পর্ক কেমন ছিল। দেখলাম সে রেগে নয়, খুশিমনেই সব উত্তর দিয়ে যাচ্ছে। বলল,
‘আমাদের বিয়ে হয়েছে প্রেম করেই। আমি তখন ছিলাম লেবাননে। সেও লেবাননেরই মানুষ, তবে থাকত এখানে আমেরিকায়। মাঝে মাঝে সে লেবাননে ফিরত। আমাদের দেখা হতো। তখন তো মনে হতো যেন আমেরিকান ফেরেশতা এসেছে। দেখতেও সে খুব সুন্দর, ব্যবহারও ভালোই মনে হয়েছিল। তাই দুপরিবারের সম্মতিক্রমে বেশ ধুমধামেই আমাদের বিয়েটা হয়েছিল। বিয়ের পরে বেশ কিছুদিন আমাদের জীবন আনন্দেই কেটেছে। পরে একে একে দুটো বাচ্চা হলো। আমার কাজ-বাজ বেড়ে গেল। ধীরে তার আসল চেহারা বেরিয়ে পড়ল। মানুষের মনের মধ্যে যে এত খারাপ চরিত্র লুকিয়ে থাকতে পারে তা কী করে বুঝব বলো?’
‘সে এমন কী খারাপ করেছে যার জন্য ছোটো দুটো বাচ্চা থাকা সত্ত্বেও তুমি তাকে ডিভোর্স দিয়েছ?’ জিজ্ঞেস করতেই বলল,
‘খারাপ মানে আমাকে কোনো টাকাপয়সা কখনোই সে দিতে চাইত না। সংসারের খরচ নিজের হাতে করত। আমি সাজগোজ করতে খুব পছন্দ করি। আমার কিছু দরকার হলে, ঘরের জন্য বা আমার জন্য কিছু কিনতে চাইলে, তার ইচ্ছে হলে কিনে দিত; নতুবা নয়। আমি সেজেগুজে থাকি সেটাও তার একদম পছন্দ নয়।






Reviews
There are no reviews yet.