Sale!

নীল মিশরীয় পদ্মের অভিশাপ

Original price was: 310.00৳ .Current price is: 220.00৳ .

Title : নীল মিশরীয় পদ্মের অভিশাপ
Author : শেখ সাদিয়া ইসলাম প্রীতি
Publisher : নবধারা পাবলিকেশন
ISBN : 987-984-29031-9-9
Edition : 1st Published, 2026
Number of Pages : 96
Country : Bangladesh
Language : Bengali

Description

সুবিশাল অরণ্যের গভীরে, দুতলা কাঠের এক অসাধারণ বাড়ি দাঁড়িয়ে আছে| বাড়িটির চারপাশে আকাশ ছুঁইছুঁই গাছরাজি, এত ঘন যে দিনের আলোও যেন ম্লান হয়ে আসে| মনে হয়, সূর্য এখানে কখনো পুরোপুরি পৌঁছায় না| চারপাশে ভয়ংকর পশুর ডাক, শিয়ালের কর্কশ চিৎকার, আর শিকারের অপেক্ষায় লুকিয়ে থাকা অদৃশ্য চোখ-এ জঙ্গল যেন নিজেই এক ঘন অন্ধকারের গল্প ফাঁস করছে|
বাড়ির চারপাশের গাছপালা এত ঘন যে, মনে হয় এটি যেন পৃথিবীর বুকে এক টুকরো জাহন্নাম| বাড়ির ঠিক পেছনের দিকে রয়েছে এক বিশাল পুরোনো কবর, শতাব্দী প্রাচীন| অনেক কবর ভেঙে গেছে, কারণ কেউ বা কারা ভেতরের অবশেষ বের করে নিয়েছে| শিয়ালেরা সেই কবর থেকে হাড়গুলো বের করে নিয়ে যায়-কোথায় তা নিয়ে যায়, কেউ জানে না|আসলে ‘হাড়’ বলা ঠিক নয়; সেখানে কেবল কঙ্কালই অবশিষ্ট| আর এই কঙ্কালগুলোর অস্তিত্বও অর্ধেকই জঙ্গলের আড়ালে হারিয়ে যা”েছ|
এই অরণ্যের মধ্য দিয়ে একটি পাকা রাস্তা শহরের দিকে ছুটে গেছে| সে রাস্তা যেন একমাত্র সেতু-যা ভয়, রহস্য ও অজানা মৃত্যুর অন্ধকারের মধ্য দিয়ে মানুষকে শহরের আলোতে পৌঁছে দিতে পারে|
আরেকটি রাস্তা গ্রামটির দিকে নিয়ে গেছে| গ্রামের নাম মোহনীয়| মোহনীয় গ্রামে সবচেয়ে প্রাচীন একটি তেতুলগাছ রয়েছে, যার বয়স প্রায় তিনশো বছর হবে বলে লোকমুখে শোনা যায়| সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই তেতুলগাছের নিচে কখনো গাছের পাতা পড়ে থাকতে দেখা যায় না| বরাবরই গাছকে পরিপাটি রাখা হয়, যেন কেউ জাদুর মতো নিয়মিত এটি পরিষ্কার করে|
মোহনীয় গ্রামের মানুষজনও এই তেঁতুলগাছকে ঘিরে ভয় পায়| কারণ গাছটির পাশে আছে একটি প্রাচীন শ্মশনাঘাট, যা বর্তমানেও ব্যবহার হয় না| গ্রামের লোকমুখে শোনা যায়, প্রতি চাঁদনী রাতে ঠিক রাত দশটায় গ্রামমধ্য দিয়ে অদ্ভুত চিৎকারের শব্দ আসে| শব্দটি অভাবিক, বোঝার কোনো উপায় নেই-মেয়ে না-কি ছেলে, কেউ বুঝতে পারে না|
চিৎকারের সেই শব্দ আসে সরাসরি জঙ্গলের মধ্য দিয়ে বাড়িটির দিক থেকে| অনেকেই রাতের বেলা, রাস্তা দিয়ে গ্রামে যাওয়ার পথে দেখতে পেত, জঙ্গলের মাঝখানে নীল আলো হালকা হালকা জ্বলে উঠছে, যেন অরণ্যের অন্ধকার নিজেই কোনো গোপন রহস্য প্রকাশ করছে|
মোহনীয় গ্রামে নীল আলোকে ঘিরে রয়েছে বহু অজানা রহস্য| যেখানে জঙ্গলের গভীরে ঘন অন্ধকার থাকার কথা, ঠিক সেখানেই মাঝেমধ্যে অদ্ভুত নীল আলো ভেসে উঠতে দেখা যায়| এই আলো কোনো সাধারণ আলো নয়-লোকমুখে শোনা যায়, যারা চাঁদনি রাতে সেই নীল আলো নিজের চোখে দেখেছে, তাদের কেউই আর বেশিদিন বেঁচে থাকেনি| পরদিনই তারা রক্ত বমি করে মারা গেছে| তবে সেই রক্ত লাল নয়-ভয়ংকরভাবে নীল|
ভয়াবহতার এখানেই শেষ নয়| অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, মৃত্যুর আগে তারা নিজেরাই হাত-পায়ের মাংস ছিঁড়ে খেয়েছে জীবিত অবস্হা| সেই দৃশ্য ছিল চোখে দেখার মতো নয়-অসহ্য যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে এক বিভীষিকাময় মৃত্যু| কেন নীল রক্তবমি হয়, কেন মানুষ নিজেই নিজের মাংসভক্ষণ করে-এই প্রশ্নের উত্তর আজও কেউ দিতে পারেনি| খোঁজ করেও পাওয়া যায়নি কোনো ব্যাখ্যা|
এই নীল আলোকে ঘিরে গ্রামবাসীরা সবসময় আতঙ্কে দিন কাটায়| কখন যে কার মৃত্যুঘণ্টা বেজে ওঠে, কেউ জানে না|
সময়টা ছিল শীতকাল-২০১৭ সালের নভে¤^র মাসের মাঝামাঝি| ঠিক সেই সময়ে ময়মনসিংহ শহর থেকে একটি দম্পতি মোহনীয় গ্রামের প্রাক…তিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে সেখানে এসে পৌঁছায়| কিš‘ তারা জানত না, এই সৌন্দর্যের আড়ালেই লুকিয়ে আছে এক নির্মম কালো অন্ধকার|
সিলেট শহর থেকে মোহনীয় গ্রাম আনুমানিক ৫০-৯০ কিলোমিটার দূরে আরো গভীরে অব¯ি’ত| শহরের ব্যস্ততা ও হট্টগোলের তুলনায়, মোহনীয় গ্রামের জীবন অনেক শান্তিপূর্ণ| এখানে বাতাস নরম ও নির্মল, মন শান্ত হয়, আর প্রক…তির সৌন্দর্য মানুষকে আনন্দে ভরিয়ে দেয়| তবু গ্রামে ভয়ও নেই বলার মতো নয়-চারপাশের জঙ্গলের গভীরে লুকানো রহস্য মানুষের মনে ভয়ের ছায়া ফেলে|
মোহনীয় গ্রাম অত্যন্ত সুন্দর| ছোটো ছোটো নদী, খাল, বিল ও পুকুরে ভরা গ্রামটির চারপাশে সবুজ গাছপালা ঘেরা|

Reviews

There are no reviews yet.

Be the first to review “নীল মিশরীয় পদ্মের অভিশাপ”

Your email address will not be published. Required fields are marked *