বায়োস্কোপ
510.00৳
| 📘 Title | : | বায়োস্কোপ |
| ✍️ Author | : | সায়লা সুলতানা লাকী |
| 🏢 Publisher | : | সপ্তর্ষি |
| 🔢 ISBN | : | 978-984-29031-0-6 |
| 📖Edition | : | 1st Published, 2026 |
| 📄Number of Pages | : | 184 |
| 🌏 Country | : | Bangladesh |
| 🗣️ Language | : | Bengali |
Description
মোবাশ্বের ওর এতদিনের উপার্জন চারটা সার্টিফিকেট একটা ফাইলে বন্দি করে বসে আছে ইন্টারভিউর জন্য ওয়েটিং রুমে। এখানে মোট বত্রিশ জনকে ডাকা হয়েছে। একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে মেশিন অপারেটর পদে চাকরির জন্য আজকের এই বোর্ডের আয়োজন। এখানকার যে কয়েকজনের সাথে ওর কথা হয়েছে তাদের অধিকাংশই বিভিন্ন পলিটেকনিক্যাল থেকে পাশ করা ছেলে। ওরা মেশিনারি পার্টসের বিষয়ে বেশ ভালো জ্ঞান রাখে কিন্তু মোবাশ্বেরের সেই জ্ঞানটুকু নেই তা আন্দাজ করে মনটা ছোটো হয়ে আছে। ইতিহাসে মাস্টার্স করেছে জেলা সদরের কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। বাড়ি থাকা অবস্থায় বেশ কয়েকটা প্রাইভেট পড়িয়ে অল্প কিছু আয় রোজগার হতো কিন্তু চাকরির নেশায় যেদিন থেকে ঢাকা এসেছে সেদিন থেকে ওই পথে রোজগার বন্ধ। ফার্মগেটের এক মেসে নিদারুণ কষ্টে দিনাতিপাত করছে কিন্তু সেই মানবেতর জীবনের গল্প কাউকেই, এমন কী নিজের মা বাবাকেও বলতে পারেনি। নিজের জমানো টাকা শেষ হয়েছে যে কবে সেই হিসাবটাই তো বাবা মা জানেন না। তারা এখনও হয়তো ধরে বসে আছে “মোবাশ্বের পকেট ভইরা টেকা নিছে ঢাকায় যাওনের কালে।”
ইন্টারভিউতে বসার জন্য একটা ভালো শার্ট প্যান্ট টাই, জুতা কিনতেই যে অর্ধেক শেষ সেই হিসাবটিও কেবল নিজের কাছেই জমা আছে । চার চারটা সার্টিফিকেটের মালিক কী আর যেন তেন কাজ করতে পারে? এমন অহংবোধ দেয় না ওকে দিনের আলোয় এমন কোন কাজ করতে যে কাজে ওর সার্টিফিকেটের গায়ে দাগ লাগতে পারে। তাই রাতের আধারেই ছুটে টুকটাক যে কাজ পায় তা করে পেট বাঁচাতে। ঘণ্টা ধরে কয়দিন রিকশাও টেনেছে কিন্তু রাস্তাঘাট ভালোমতো না চেনায় শুধু ঠকেছে বলেই ওর ধারণা। তারপর পেসেনঞ্জারের গালাগালিগুলো রীতিমতো বড়োই আত্মসম্মানকে কাঁদিয়েছে। এরপর সারারাত গা ব্যথা পা ব্যথাতে তো ভুগেছেই সে কথা আর না মনে করলেও চলবে।
হোটেল বয়ের কাজটাতে সে তুলনায় কষ্ট কম, মানুষের খাওয়া এঁটো তুলে প্লেট পরিষ্কার করাটাও এখন আর অভক্তিতে পড়ে না যা প্রথম প্রথম লাগত। কিন্তু সেখানে টাকা খুব কম পাওয়া যায়। যা দেয় তাতে পোষায় না। ঢাকা শহরের পানিটাও খেতে হয় কিনে, সেখানে তিনবেলা খেয়ে বেঁচে থাকতে প্রতিমাসেই কারো না কারো কাছে ধারদেনার জন্য হাত পাততে হয়। তার উপর চাকরির জন্য ঢাকার এ মাথা থেকে ও মাথা দৌড়াদৌড়িতেও টাকা লাগে। নিদেন পক্ষে যাওয়ার ভাড়াটা তো লাগেই। হেঁটে গেলে ঘেমে একাকার হতে হয়। তখন আর ভালো বেশে ইন্টারভিউ বোর্ডে বসা যায় না। তাই যাওয়ার সময় পরিবহন খরচটা পকেটে রাখতেই হয়।
এতসবের পরও যখন পত্রিকার পাতায় দাগ কেটে কেটে এক একটা ইন্টারভিউতে যায় আর সেখান থেকে ফিরে আসে শূন্য হাতে তখন আর মনে কোন জোর থাকে না।
গ্রামের এক মামার মাধ্যমে এক চাকরির জন্য পুরো মাস ধরে ঘুরেছে মোবাশ্বের। মামা সেই সুযোগে তার বাড়ির বিভিন্ন কাজ ওকে দিয়ে করিয়ে নিয়েছে তাতে ওর কোন আক্ষেপ ছিল না। গ্রামে গেলে মামা কত ভালো ব্যবহার করত ওদের বাড়িতে দাওয়াত খেতে গিয়ে আর সেই মানুষটারই আমূল-পরিবর্তন পাবে ঢাকায় বসে তা মোবাশ্বেরের কল্পনার বাহিরে ছিল। শেষ ধাক্কাটা দিয়েছিল মামা তার অফিসের গেইটে। সেদিন মামা তার ঢিলা প্যান্ট টেনে কোমরে তুলতে তুলতে বলেছিলেন
… বাবা মোবাশ্বের, তোমার যে রেজাল্ট তাতে তো তুমি পিওনের চাকরিও পাও না। তোমার মাথাতো দেহি পুরাই গোবরে ভরা। এমন মাথা নিয়া মাস্টার্স পর্যন্ত আইলা ক্যামনে তাই ভাইব্যা আমি কূল পাই না?
… মামা যে কী কন? আমি কি খালি মাস্টার্স পর্যন্ত আইছিনি, পাশও করছি। দেহেন সার্টিফিকেটও আছে আমার কাছে।
… দূর ব্যাডা আহম্মক! অমন সার্টিফিকেট টেকা থাকলে দশটা বিশটা বানায় নেওন যায়। আর তোরা গ্রামে বইস্যা যে নকল টকল কইরা পাশ কইরা ফালাস তা কি আর শহরের মানুষ না বুঝেনিরে বাপ?
… তয় মামা আমার কি আপনের অফিসের চাকরিডা হইব না?
… শোন অসম্ভব বইল্যা কিচ্ছু নাই। তোর বাপেরে ক লাখ পাঁচেক টেকা পাঠাইতে। বাকিটা আমি দেখতাছি।
… ও আল্লাহ, মামায় এইডা কী কইলেন? বাবায় এত টেকা কই পাইব? কেমনে পাডাইব? এই কথা আমি কেমনে কই?…………………………………………………






Reviews
There are no reviews yet.