Sale!

ফেরা

(1 customer review)

Original price was: 900.00৳ .Current price is: 675.00৳ .

  • গ্রন্থ:ফেরা
  • ধরন: কবিতা
  • কবি:শেখ হুমায়ুন রেজা
  • প্রচ্ছদ:আল নোমান
  • প্রকাশনায় : সপ্তর্ষি
  • প্রুফরিডিং:সপ্তর্ষি টিম
  • মূল্য:৯০০

Description

ফেরা

ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সকাল-সন্ধ্যা হরতালে সারাদেশেই ককটেল ব্যবহার হয়েছিল। হরতাল বাস্তবায়নের জন্য ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের গোপন মিটিং গুলোতে আলোচনার মাধ্যমেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। জেলা পর্যায়ের অনেক নেতারাই বিতর্কের সৃষ্টি হবে দেখে এর বিরোধিতা করেছিলেন, কিন্তু বাস্তবতার কারণে সবাই মেনে নিয়েছিলেন। রাজনীতি ছিল নিষিদ্ধ। হরতাল বাস্তবায়নের জন্য রাস্তায় নামার কোন সুযোগ ছিল না। জেল জুলুম হুলিয়ার ভয় ছিল। সেই চিন্তা থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া। এখন আমরা ককটেল শুনলেই আতঙ্কিত হই। এগুলো মূলত পূজার উৎসবে কিংবা বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে যে ফটকা ব্যবহার করা হয় তাই। এই ককটেলগুলোর ক্ষতি করার কোন সামর্থ ছিল না। তাছাড়া এগুলো কোন জনবহুল এলাকাতে ব্যবহার করা হয়নি। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হরতালের আগের রাত্রে শহরগুলোর রাস্তাতে এগুলো চার্জ করা হয়েছিল, যাতে গোলযোগের হয়, এই ভয়ে পরের দিন দোকানপাটসহ সবকিছু বন্ধ থাকে এবং ফলশ্রুতিতে শান্তি পূর্ণভাবে হরতাল করা সম্ভব হয়।
আরেকটি কারণ ছিল, সেটা সামরিক জান্তাকে সহিংসতার ভয় দেখানো।
সামরিক জান্তা যাতে বুঝতে পারে রাজনীতিকরা অধিকার আদায়ের জন্য সন্ত্রাসের পথ অবলম্বন করতে বাধ্য হচ্ছে। যা হতে পারে ভয়াবহ। মূলত এই মেসেজ এর জন্যই এই পটকাগুলো ব্যবহার করা হয়েছিল। মানু ভাইদের মতো জেলা পর্যায়ের ছাত্রনেতারা প্রস্তুতি মিটিংগুলোতে এর বিরোধিতা করলেও কর্মীদের দাবির মুখে মেনে নেওয়া এই কৌশলটি খুব কার্যকর হয়েছিল। এর ফলে আমরা ঘরোয়া রাজনীতি করার অধিকার আদায় করেছিলাম।
স্বৈরাচার সামরিক জান্তা এরশাদের হাত থেকে নিষিদ্ধ রাজনীতিকে উন্মুক্ত করার জন্য ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ডাকে সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল। হরতালকে সফল করার জন্য সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। সেই কর্মসূচিকে বাস্তবায়নের জন্য মানু ভাইয়ের নেতৃত্বে (মানু খান) আমরা গোপনে জমায়েত হয়েছি স্টেশনের পাশে এক জায়গায়। তখন সন্ধ্যা সাতটা। কিছুক্ষণ পর গনরগাতী থেকে আমাদের কিছু কর্মী এলেন। উনাদের হাতে কয়েকটি চটের ব্যাগ। ব্যাগগুলোতে ছিল ককটেল। আমাদের দায়িত্ব ছিল স্টেশন থেকে বড়োবাজার পর্যন্ত অবরোধ সৃষ্টি করা। এই লক্ষ্যে রাত আটটার সময় আমরা বিভিন্ন জায়গায় ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটাব।
মানু ভাই আমার হাতে একটি ব্যাগ দিয়ে বড়ো বাজারের পূবালী ব্যাংকের সামনে থেকে চৌরাস্তার মোড় পর্যন্ত চার্জ করার জন্য। আমি আর নব (অংকুর জিৎ সাহা) স্টেশন থেকে একটি রিকশায় উঠলাম বড়ো বাজারে যাওয়ার জন্য। ইতোমধ্যে কোথাও কোথাও ককটেল ফাটানো শুরু হয়ে গেছে। কথা ছিল সবাই আটটার সময় ককটেল চার্জ করবে কিন্তু অতি উৎসাহী অন্যান্য ছাত্রলীগের কর্মীরা আগেই সেটা শুরু করে দিয়েছিল। আমাদের রিকশাটি এসএস রোডের সাধনা ঔষধালয় এর সামনে আসার পর মানুষের দৌড়াদৌড়ি দেখতে পেলাম। রিকশাটি যখন কোহিনুর মেডিক্যালের সামনে, তখন মিলিটারিদের একটি জীপ আমাদের রিকশার পাশে দাঁড়াল। পাশে তাকিয়ে দেখি নব নেই। ইতোমধ্যে মিলিটারিদের জিপ থেকে দুইজন সিপাহী নেমে আমাদের রিকশার দিকে আসছে আতঙ্কে আমি রাঙ্গা ভাইদের গলির ভিতরে দৌড় দেবার মুহূর্তেই পিছন থেকে আমার শাটের একটি অংশ কেউ টেনে ধরেছে বুঝতে পারলাম। পিছনে তাকানোর সময় ছিল না গলির মধ্যে ঢুকেই খোকন সাহার ট্রাকের গ্যারেজের পাশ দিয়ে আমাদের রোডে এসে দাঁড়ালাম। দেখি আমাদের মিলের সামনে অনেক লোক। ওদিকে না যেয়ে জ্যোতি ভাইদের বাসার ভিতরে ঢুকে ছুটলাম ভিতরের দিকে। সারা শব্দ শুনে জ্যোতি ভাই ঘর থেকে বের হয়ে গেটের দিকে যেতে লাগলেন ভাবলাম এ যাত্রা রক্ষা পেলাম। কারণ জ্যোতি ভাইকে টপকে কোন সেনা সদস্যদের পক্ষে সম্ভব না ভিতরে ঢোকা। কারণ মাত্র কিছুদিন আগে জ্যোতি ভাই সেনাবাহিনী থেকে অবসর নিয়েছে। জ্যোতি ভাইদের বাসার পিছন দিয়ে আমাদের বাসায় ঢুকে পড়ে খেয়াল করলাম আমার শরীরে শার্টে কলার এবং হাতা দুটো আছে। বাকি অংশটুকু সেনাসদস্যে ছিঁড়ে নিয়েছে। দ্রুত শার্ট পরে চাউলের মিলের চাতাল দিয়ে বড়ো বাজারের দিকে রওনা হলাম। তখন মনে পড়ল পূবালী ব্যাংক এর পিছনের অংশটুকু জঙ্গলে ভরা এবং ভাঙা দেওয়াল দিয়ে পূবালী ব্যাংকের ছাদে ওঠা যায়। আমিও ছাদে উঠে পড়লাম এবং মানু ভাইয়ের নির্দেশিত ঠিক আটটার সময় পূবালী ব্যাংকের সামনে এসএস রোডে ককটেল নিক্ষেপ করলাম ফালানোর দোকানের সামনে। শুরু হলো ছোটাছুটি। নিমিষেই লোকশূন্য হয়ে পড়ল বড়োবাজার।
সে রাতে আর ঘরে শুইনি। চাউলের মিলের চাতালে ধান রাখার টোপরের নিচে শ্রমিকদের সাথে নিরাপদে রাত্রি কাটালাম। পরের সারাদিন লোকশূন্য শহর।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিরাজগঞ্জের ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের অনেকেই অ্যারেস্ট হয়ে ছিল। বগুড়া সামরিক আদালতে জেল হয়েছিল। আর আমাদের শহর হয়েছিল নেতাকর্মীশূন্য। আমিও দুলাল (শাহনেওয়াজ দুলাল/প্রখ্যাত সাংবাদিক, নির্বাহী সম্পাদক) বাসা নিরাপদ না তাই আশ্রয় নিলাম আমিনুল ইসলাম চৌধুরী ভাইয়ের বাসার পিছনে তাজুলের ঘরে। (এডভোকেট আব্দুর রহমান ভাইয়ের শ্বশুর বাড়ি)। নেতাকর্মীশূন্য সিরাজগঞ্জে আমি আর দুলাল রাতের আঁধারে নিজের হাতে লেখা পোস্টার বড়োবাজার থেকে শুরু করে কলেজ পর্যন্ত একজন আরেক জনের কাঁধের দাঁড়িয়ে লাগিয়েছি রাজনীতি করার অধিকার আদায়ের জন্য। গণতন্ত্র আদায়ের জন্য।
তখন বিকাল। আমি রাজা মোরসেদ সহ বেশ কয়েক জন টিএসসি-এর সড়ক দ্বীপে জসিম ভাইয়ের চায়ের দোকানের সামনে আড্ডা দিচ্ছিলাম। এমন সময় সিরাজগঞ্জের একটি ছেলে একটি চিরকুট দিলো। এক লাইনের চিঠি। লতিফ ভাই লিখেছেন, ‘পিন্টু এখান থেকে আমাকে নিয়ে যা।’ জাসদের বিভক্তি রোধে লতিফ মির্জা ভাই ঢাকায়। ছেলেটি জানাল ভাই বিভক্তি রোধ করতে পারেন নাই উলটো ইনু ভাইয়ের অংশের মিটিয়ে সভাপতিত্ব করতে বাধ্য হয়েছেন ছাত্রলীগের চাপে। বুঝতে পারলাম পরিস্থিতি খারাপ। সে সময় একমাত্র জাসদ ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র দলকে কিছুটা কাউন্টার দিতে পারত। রাজার সহযোগিতা চাইলাম। আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিলাম ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউট থেকে লতিফ ভাই কে নিয়ে আসব। গোর্কিভাইকে ফোন করলাম তার মাইক্রোবাসের জন্য। গোর্কি ভাই পুরান ঢাকার একজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী। আমার ঘনিষ্ঠ স্বজন। গাড়ি আসার পর চালকসহ আমরা ছয়জন ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে যাই। আকরাম ভাই, জিন্নাহ ভাই গেটেই ছিল। আমাদের দেখে এগিয়ে এলেন। মধুদার কেন্টিনেপ্রায়ই আমাদের কথা হয়। আমাকে আকরাম যথেষ্ট স্নেহ করেন। বললেন কি ব্যাপার পিন্টু গাড়ি নিয়ে এসেছো। বললাম লতিফ মির্জা ভাইকে সারপ্রাইজ দেব। বললেন ভিতরে যাও মির্জাভাই সব নেতাদের সাথে মিটিংয়ে আছেন। ইনু ভাই শিরিন আপারা আলোচনা করছিলেন। লতিফ মির্জা ভাইকে সালাম দিলাম। হাসিমুখে বললেন কেমন আছিস। বললাম ভালো। জিগাসা করলাম কোথায় উঠেছেন। উত্তর দিলেন এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি কোথায় উঠব। আমি আমার বাসায় উঠার অনুরোধ জানালাম। নিখুঁত অভিনেতার মতো বললেন, আমার এখানে কিছু কাজ আছে। আমি বললাম শেষ করেন তার পরে যাব। ইতোমধ্যে আকরাম ভিতরে এসেছে। আমাকে বলল লতিফ ভাই যদি যায় নিয়ে যাও সকালে মধুতে নিয়ে এসো।

 

 

 

1 review for ফেরা

  1. 😈💦 Withdraw 1.824761 BTC. Get >> yandex.com/poll/MHjpsbzYiRKpBEU48DzHgH?hs=0ec5d20a8788debfc63a2d1bebc1d768& 😈💦

    vvo60z

Add a review

Your email address will not be published. Required fields are marked *